বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ

৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ঠোট ফাটালেন সহকারী শিক্ষিকা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি::

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিক্ষিকার ডাস্টারের আঘাতে ফাঁটা ঠোঁট নিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন(১২) নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে ভেলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করার পর সারাদিন আটকে রাখে। বিকেলে অভিভাবক এসে তাকে উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান ওই শিক্ষার্থীকে।

আহত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন উপজেলার পুর্ব ভেলাবাড়ি গ্রামের রাইচমিল শ্রমিক আলতাব হোসেনের ছেলে। সে ভেলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেনির ছাত্র।

হাসপাতাল ও আহত শিক্ষার্থী জানায়, ভেলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেনির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে তার এক বন্ধু ২০ টাকা হাওলাত নিয়ে দিতে গড়িমসি করে। এ নিয়ে সোমবার ক্লাশে দুই বন্ধুর মাঝে কথাকাটা হয়। এ সময় সহকারী শিক্ষিকা শামছুন নাহার ক্লাশে প্রবেশ করলে তার ওই বন্ধু তাকে মিথ্যে কথা বলে যে শিক্ষিকাকে অশ্লিল ভাষায় গালি দেয়া হয়েছে। তিনি বিস্তারিত না শুনে রাগান্বিত হয়ে হাতে থাকা ডাস্টার দিয়ে মামুনকে এলোপাতারী মারপিট করেন। এতে তার ঠোঁট ফেঁটে রক্ত ঝড়তে শুরু হলে সজ্ঞাহীন হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে সে। পরে সহপাঠিরা মিলে তাকে উদ্ধার করে অফিস কক্ষে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে অর্ধঘন্টা পরে জ্ঞান ফিরে আসে মামুনের।

এরপর সারাদিন বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আটকে রেখে দায় এড়াতে আহত শিক্ষার্থীর বাড়িতে ফোন করে তাকে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে আহত মামুনের পরিবার তাকে উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনাটি বেগতিক দেখে শিক্ষিকা শামছুন নাহার ওই শিক্ষার্থীর আচরন খারাপ ও তাকে যৌনহায়রানী করা হয়ে বলে অভিযোগ তুলে শিক্ষকদের কাছে নালিশ করেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকরা বৈঠক করে উল্টো আহত শিক্ষার্থী মামুনকে লাল টিসি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও অভিভাবকদের দাবি।

আহত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনের চাচা নুর আলম বলেন, ক্লাশে দুষ্টোমির অপরাধে মারপিট করেই থেমে থাকেনি উল্টো শিশু’র বিরুদ্ধে মধ্যবয়স্কা শিক্ষিকা যৌনহয়রানীর অভিযোগ তুলে তাকে লালটিসি দেয়ার হুমকী দিচ্ছে। তারা আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাও দেয়নি। এ ঘটনায় থানাসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ওই মহিলা শিক্ষিকা শামছুন নাহার ভেলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। তাই তার বিরুদ্ধে ওই এলাকার কোন ব্যক্তি কথা বলারর সাহস পান না।

ভেলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান লাল টিসি’র হুমকী অস্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষার্থী শিক্ষিকাকে অশ্ললিল ভাষায় কিছু বলেছিল বলেই তাকে একটু শাসন করা হয়েছে মাত্র। এরপর তার অভিভাবককে ডেকে ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। এটা নিয়ে হাসপাতালে বা থানায় মামলা করে লাভ কি?। একজন খারাপ ছাত্রের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নষ্ট করতে পারি না।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার সৌরভ দাস বলেন, শিক্ষার্থী মামুনের দুই হাতের বাহুতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার ঠোঁট ফেঁটে জখম হওয়ায় তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com